Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি 2012

একুশের চেতনা হোক জাতীয় মুক্তি ও জনগণের সংগ্রামের প্রেরণা!

একুশের চেতনা হোক জাতীয় মুক্তি ও জনগণের সংগ্রামের প্রেরণা!
সাম্রাজ্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসণ প্রতিহত করুন!
বাংলাদেশের জনগণের জাতি হিসেবে বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে মহান একটি অধ্যায় হল ভাষা আন্দোলন। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ’৪৭ এর তথাকথিত স্বাধীনতা লাভের পর পূর্ব বাংলার ওপর শোষণ বৈষম্য পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে প্রথম আঘাতটি হানে মাতৃভাষার ওপর। এর বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ছাত্র সমাজ সোচ্চার ছিল। ছাত্রসহ ব্যাপক জনগণের বিরোধিতা সত্ত্বেও উর্দূকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার জন্য শাসক শ্রেণী মরিয়া হয়ে উঠলে তীব্র বিরোধ ছড়িয়ে পরে, স্পষ্ট হয়ে পড়ে জনগণের সত্যিকার শত্রু-মিত্র। তৎকালের আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান আওয়ামী লীগ) এর মিত্র সংগঠন মুসলিম ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার বিরোধিতা করে। এই সুবিধাবাদী আচরণের বিরোধিতা করে ভাষা মতিন (আবদুল মতিন) এর নেতৃত্বে ব্যাপক ছাত্র-জনতার “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি” ১৪৪  ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে সালাম বরকতেরা প্রতিষ্ঠা করে মাতৃভাষার অধিকার। Continue reading

আলোচনা, প্রতিবাদী গান-আবৃত্তি ও বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য, ঢা.বি’র স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন

 ১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টা ৩০ মিঃ এ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কলা ভবনের সামনের বট তলায় স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে আলোচনা সভা ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কর্মসূচী পালন করে। আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের নেতা জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক কমরেড ফয়জুল হাকিম, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সহ-আহবায়ক জাফর হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক গনমঞ্চের আহবায়ক মাসুদ খান, সংস্কৃতির নয়া সেতুর সংগঠক জাহিদ হাসান মাহমুদ, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম। আলোচকগণ বলেন, সামরিক স্বৈরাচারকে জনগণ উচ্ছেদ করলেও বর্তমানে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র চলছে। শাসকশ্রেণীর দলগুলো জাতীয় স্বার্থবিরোধী একের পর এক চুক্তি করে যাচ্ছে। জনগণ আজ সাম্রাজ্যবাদের দালাল এই শাসকশ্রেণীর কাছে জিম্মি। আলোচকগণ USA এর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক ও ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির আগমনের প্রতিবাদ জানান। আলোচনা সভার পর মুক্তির মঞ্চপ্রপদ গণসংগীত পরিবেশন করেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন এর এম এম পারভেজ লেলিন। এর পর এক বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসে প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যদিয়ে কর্মসূচী শেষ হয়।

(ছবি ও লেখা- এম.এম. পারভেজ লেনিন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন)

আমাদের আন্দোলনের জ্বলন্ত প্রশ্ন : ভি.আই. লেনিন

“আমাদের স্বপ্ন দেখা উচিত!” এই কথাগুলো আমি লিখলাম এবং হয়ে উঠলাম আতঙ্কিত। আমি মনে মনে কল্পনা করলাম, একটা “ঐক্য সম্মেলনে” বসে আছি আমি আর আমার উল্টো দিকে বসেছেন ‘রাবোচেয়ে দিয়েলো’র সম্পাদকবৃন্দ ও লেখকগণ। কমরেড মার্তিনভ উঠে দাঁড়ালেন, এবং আমার দিকে ফিরে, কঠোর ভাষায় বললেনঃ “আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আগে পার্টি -কমিটিগুলোর মতামত না নিয়েই, কোন স্বায়ত্বশাসিত সম্পাদকমন্ডলীর স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে কি?” তারপর উঠলেন কমরেড ক্রিচেভ্স্কি (বহু আগেই কমরেড পেখানভকে প্রগাঢ়তা দান করেছিলেন যে-মার্তিনভ, তাঁকে দার্শনিক দিকে দিয়ে আরো গভীরতা দান করে), যিনি আরো কঠোরভাবে বললেন, “আমি আরো এগিয়ে যেতে চাই। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, স্বপ্ন
দেখার অধিকার কোনো মার্কসবাদীর আদৌ আছে কি, যখন সে জানে যে মার্কসের মতে মানবজাতি সবসময় এমন সব করণীয়ই নিজের জন্য নির্ধারিত করে যার সমাধান সে করতে পারে, রণকৌশল হল পার্টি -করণীয়গুলোর বৃদ্ধি-বিকাশেরই এক প্রক্রিয়া, যা পার্টির বিকাশের সাথে সাথে একত্রেই বৃদ্ধি পায়?”

Continue reading

আসুন ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন করি

১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস, অন্য কিছু নয়।  একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভূখণ্ডের জন্য এ জনপদের মানুষ বারবার অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। যুগে যুগে সামরিক-বেসামরিক ছদ্মবেশে স্বৈরাচারীরা ক্ষমতা দখল করেছে। জনগণ প্রতিবাদ করলে জুটেছে বেয়নেট, বুট, গুলি, টিয়ারশেল। এরকমই ১৪ মার্চ ১৯৮২ সালে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সামরিক আইন জারি করে সংবিধান ও মৌলিক অধিকার স্থগিত করা, রাজনৈতিক নেতাদের ধড়পাকড় শুরু করা_এসব বিভিন্ন কারণে তাঁর এ ক্ষমতা দখলকে কোনো রাজনৈতিক দল শক্তভাবে প্রতিরোধ করতে পারেনি। তবে ছাত্ররা প্রথম থেকেই এরশাদের শাসনক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রদের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রথম শহীদের নাম জয়নাল দিপালী কাঞ্চন। এরপর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। পশ্চিম থেকে আগত ভ্যালেন্টাইনের জোয়ারে ভেসে গেছে রক্তের অক্ষরে লেখা, এ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে সেই সব শহীদের নাম।

Continue reading

বাংলাদেশে মার্কিন দুর্গ এবং ‘সুশীল সমাজ’: আনু মুহাম্মদ

বর্তমানে আমরা এমন সময় পার করছি যখন বাংলাদেশে মার্কিন-ভারত আধিপত্য এবং বহজাতিক পুঁজির শৃঙ্খল পাকাপোক্ত করবার চেষ্টা চলছে। এই আধিপত্য ও শৃঙ্খল নতুন করে যে হচ্ছে তা নয়, তার জাল অনেক দিন থেকেই আমাদের সমাজে ধীরে ধীরে ছড়িয়েছে যার প্রধান আশ্রয় এদেশেরই ‘সুশীল সমাজ’।

Continue reading

নয়া-গণতন্ত্রের সংস্কৃতি: মাও সে তুঙ

একটি বিশেষ সংস্কৃতি হচ্ছে তৎকালীন সমাজের অর্থনীতি ও রাজনীতির ভাবাদর্শগত প্রতিফলন। চীনে একটি সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতি আছে, আর তা হচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বা তার আংশিক শাসনের প্রতিফলন। এই সংস্কৃতিটি কেবলমাত্র সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিই লালন করে না, উপরন্তু কিছু কিছু নির্লজ্জ চীনাদের দ্বারাও লালিত হয়ে থাকে। দাস সুলভ মতাদর্শের সব রকম সংস্কৃতিই এর আওতায় পড়ে। এ ছাড়া চীনে আধা-সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতিও আছে। আধা-সামন্ততান্ত্রিক অর্থনীতি ও রাজনীতি থেকেই এর উদ্ভব। যারা নতুন ভাবধারা ও নতুন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কনফুসিয়াসের ভজনা, কনফুসীয় ধর্মগ্রন্থাদি, পুরনো বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ এবং পুরনো ভাবধারা প্রভৃতির প্রচার করে ও মেনে চলার কথা বলে, তারা সবাই এই আধা-সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতি ও আধা-সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতি হচ্ছে দুই ভাই; এর খুবই অন্তরঙ্গ। চীনের নতুন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই দুই সংস্কৃতি মৈত্রী স্থাপন করেছে। এই ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি সাম্রাজ্যবাদী ও সামন্তবাদী স্বার্থবাহী। তাই এই সংস্কৃতিকে উচ্ছেদ করতেই হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সংস্কৃতির উচ্ছেদ সাধন করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো ধরনের নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। ধ্বংস ছাড়া কোনো  গঠন কর্ম হয় না, বাধা না পেলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় না, বিরতি ছাড়া গতির অর্থ নেই; জীবন-মরণ সংগ্রামে উভয়ই আবদ্ধ।

Continue reading

সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের লক্ষ্য : বদরুদ্দীন উমর

সংস্কৃতির সংজ্ঞা বিভিন্ন লোকে, বিশেষতঃ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকে, ভিন্ন ভিন্নভাবে দিতে পারেন এবং দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ সংস্কৃতি বলতে কে কি বোঝাতে চান তার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে কোন মতবেদের অবকাশ নেই, এবং সে বিষয়টি হলো এই যে সংস্কৃতি বলতে যা কিছুই বোঝানো হোক সেটা কোন ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, কোন নিছক ব্যক্তিগত ব্যাপার সেটা হতে পারে না। কারণ সংস্কৃতিতে কোন না কোন সমাজের নিজস্ব গঠন চরিত্রের প্রতিফলন ব্যতিত অন্য কিছু নয়।

Continue reading

প্রতি মনমোহন: জাহিদ রোকনের কবিতা

ক্যান এতো মান করিসরে বু’ডুইব্ব্যা মরার জায়গাও যে নাইগলায় কলসি বাইন্ধা করবি কিডাঙায় কুমির নদী গেছে শুকাই

 

আমার পোশাক খুলে ঝুলিয়ে দিন

বাঁশঝাড়ের মাথায়

আমাদের ঘনিষ্ঠতায় মুগ্ধ হয়ে যাক সবাই

ঠোঁটেঠোঁটে লেগে থাক স্তুতিগান সব

আর কিছুক্ষণ অভিসারে মাতি

 

ঢাকা – দিল্লি সুবাসিত হয়ে উঠুক তাই

আতরের ঘ্রাণে

শিকারের ধুমে নাব্যতা পেতে থাক

পুরোহিত গাঙ

নস্টালজিয়ায় পোড়া তিরোহিত চোখ যদি

বিষণ্ণতাও আনে

 

ভালোবাসা দলনে নেই কোন অভিমান !

 

৩০.০৫.২০১১